"তুমি ভাবছো - তোমাকে দিয়ে কিছুই হবেনা। আমি অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে। আমি বলবো - সর্বোচ্চ ব্যর্থতা তোমাকে সর্বোচ্চ সফল করবে। The best view comes after the hardest climb. স্বপ্ন যখন বুয়েট, ঢাবি, রাবি, জাবি, সাস্ট বা ডিএমসির প্রাঙ্গণে সাদা এপ্রোণ চলো দেখিয়ে দেই কীভাবে এই বিদ্যাপীঠগুলোতে সেরাদের মধ্যে সেরা হবে। Now your turn. Let's start.
বন্ধুতালিকার মধ্যে এইচ এস সি জিপিএ যখন সবচেয়ে কম পাই কোচিং সেন্টার থেকে বের হয়েই বন্ধু বলে - "তুমি ঢাকার বাহিরে পরীক্ষা দাও।" গ্রামের এক বন্ধু বলে -"সিলেট ইন্জিনিয়ারিং কলেজে পরীক্ষা দাও৷ এটা SUET হতে পারে৷ সাস্টেতো আমরা ভয়ে পরীক্ষা দেইনি।" আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতাম -"আমি আরও ভালো কিছু ডিজার্ভ করি। সেই আমি স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় দেশসেরা বিদ্যাপীঠগুলো থেকে আমন্ত্রণ পাই বক্তৃতা দেয়ার জন্য। প্রাথমিক থেকে আজ প্রতিটা ক্লাসে ফেইল করেছি। কিন্তু শুধু ভেবেছিলাম -"লেগে থাকবোই" তুমি ভাবছো আমিতো গণিতে অনেক গ্যাপ। জোলোজি মনে থাকেনা। বলিকি - এখন থেকে লেগে থাকো দিনরাত। তুমি যে শ্রেণীর শিক্ষার্থী হওনা কেনো স্বপ্নের থেকেও বেশী কিছু করতে পারবে দুদিন পরে হলেও৷ কারণ বিধাতা কাউকে যে নিরাশ করেননা।
জানো - জেদ এমন পর্যায়ে ছিলো যখন চান্স পাবো বাথরুম যাবো। কিন্তু ওখানে না গিয়ে কি থাকা যায়? তবে মাঝে মাঝে সকাল ও দুপুরে খেতে মনেই থাকতো না পড়ার চাপে৷ তুমি কি এমন জেদ তৈরি করতে পারবে? টুনটুনির জন্য নয় নিজের জন্য পড়বে। "হ্যা, মা তোমার ছেলে পেরেছে" তুমি সফল হতে না পারলে পৃথিবী তোমাকে বলবে তুমি চলে যাও। আর সফল হলে পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় তুমি বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারবে৷
আমি জানি - তোমার আত্মবিশ্বাস নেই। কেন, নটর ডেইম কলেজের যারা টপার কলেজে থাকতেই হিসাব করে তাদের বুয়েটে কত পজিশন হবে। তুমি কেন চিন্তা করতে পারোনা? ওদের কয়টা মাথা? ওরা কি মঙ্গল গ্রহ থেকে বই নিয়ে এনে পড়ে? ওদের টিচার কুি সবাই অক্সফোর্ড থেকে আসে? কোনোটাই না। ওদের নার্সিং-এর মান ভালো৷ তুমি সর্বোচ্চ ইফোর্ট দিলো তাদের থেকেও ভালো করবে এটা নিশ্চিত। এই মনোবলের জন্য ইফফাত কামাল বাপ্পী প্রথমবার উল্লেখযোগ্য ভালো না করলেও দ্বিতীয়বার মেডিকেল পরীক্ষায় সারাদেশ-এ প্রথম হয়৷ দেশের তৃতীয় দরিদ্র জেলা দিনাজপুর থেকে বুয়েটে প্রথম হয়। এরা যে পরিমাণ কষ্ট করেছে তুমি করো? আনিকা তাহসিন - এর মতো হতে ইচ্ছে করেনা? যে ১৩-১৪ সেশনে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয় আবার বুয়েটেও সিএসই পায়।
এবার প্রস্তুতি নিয়ে বলি? মটিভেশন দিয়েই থেমে থাকবোনা৷ সব ভাইয়ারা বলে - কনসেপ্ট ক্লিয়ার কর। কিন্তু কীভাবে কনসেপ্ট ক্লিয়ার করবে তা বলেনা। চলো পড়াশোনার দুনিয়া থেকে আসি।
1733 খ্রিস্টাব্দে ফরাসি বিজ্ঞানী Du Fay চার্জের দুটি সূত্র আবিষ্কার করেন। এখানে কী ওয়ার্ড করার সময় 1733, ফরাসি, Du Fay মার্ক করবে। Du Fay -এর পূর্ণ নাম জানোতো? মনে করো বায়োলজিতে মাইটোকন্ড্রিয়া/ নিউক্লিয়াস-এ কী কী কাজ হয় পড়ছো। দাগানোর সময় শুধু কী কী কাজ হয় তা দাগাবে। লাল, নীল, কাল কলম ও পেন্সিল দিয়ে দাগাও। যা সকালে পড়বে দুপুর ও বিকেলে এগুলো চোখ বোলাও। রাতে ঘুমানোর পূর্বে চোখ বন্ধ করে রিভিশন দেবে। কিছু লিডিং টপিক আছে। যেমন ভেক্টরের স্রোত, আপেক্ষিক বেগ। গতির ক্ষেত্রে প্রাস। এসবে টপিক সম্পর্কে ভালো ধারণা নাও। মূল বই কয়েকটা কর লিডিং টপিক নিয়ে। টেস্ট পেপারস থেকে জাস্ট কয়েকটা কলেজ করো।
ম্যাথ এমনভাবে করবে যেন উত্তরও মুখস্থ হয় অর্থাৎ অঙ্ক মনে মনে করে উত্তর মুখস্থ এর মতো বলবে। ত্রিকোণমিতি ও জ্যামিতির সূত্র নিয়মিত রিভিশন দাও৷
কোচিং শেখার জায়গা না। সেটা অনুশীলনের জায়গা। কোচিং-এর আশায় কোনোকিছু রাখবেনা।
এবার চলো Real inspiration নেই।
তুমি কি কখনও Rehabilitation of the Paralysed (CRP) এর নাম শুনেছো? এটার হেড কোয়ার্টার সাভারে অবস্থিত। এখানে সারাদেশের প্রতিবন্ধী অর্থাৎ Physically disabled যারা চিকিৎসা নিতে পারে স্বল্প ব্যয়ে কিংবা ব্যয় ছাড়াই। তোমার স্বপ্ন এমন হতে পারেনা আমি গরীবদের জন্য এমন বিশ্বমানের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবো? হতে পারলাম না ডাক্তার। কিন্তু ডাক্তার না হয়েও বেশী মানুষের চিকিৎসা করানো তোমাকে কি কেউ বেঁধে রেখেছে? দেবী শেঠী এর নাম শুনেছো? ভারতীয় এই বিখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জন আমাদের মতো বিসিএস বা সরকারি চাকরীর পিছনে ঘুরেনি। তৈরি করেছেন বিশ্বমানের চিকিৎসা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বসেরা Medical Entrepreneur -দের একজন তিনি। আমরা কি শুধু স্বপ্ন দেখবো বুয়েট - ঢাবি কিংবা বিসিএস এর জন্য। গুগলের নাম শোনার পর সেখানে প্রিন্সিপাল ইন্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখবো?
আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার একজন সহযোদ্ধা থার্ড ইয়ারে পড়েই সফটওয়্যার ফার্ম দিয়েছে। এক বান্ধবীকে দেখেছি Journalism and media studies -এ অধ্যয়ণ করা অবস্থায় সংবাদপত্রের বিশাল দুনিয়া তৈরি করেছে। এই মানুষগুলোর পরিবারের বিশাল পুঁজি ছিলোনা। এরা নিজের প্রবল ইচ্ছেয় এগিয়ে যাচ্ছে।
আসো স্বপ্ন দেখি ও অন্যকে দেখাই। গল্পগুলো এমন হতে পারেনা বাংলাদেশ একদিন অস্ট্রেলিয়ার সিডনি কিংবা সুইজারল্যান্ডের মতো উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে? এই স্বপ্ন তখনই পূরণ হবে যখন তুমি স্বপ্ন দেখবে, ভাই।
ছোটবেলায় আমি এতোটাই অসুস্থ থাকতাম ঈদের দিনও হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। ৩৬৫ দিনের ৩০০ দিনই স্বাভাবিক থাকতাম না। পড়াশোনায় এতোটাই খারাপ ছিলাম বন্ধুরা হাসাহাসি করতো। খেলাধূলায় এতোটা খারাপ ছিলাম আমাকে কেউ খেলায় নিতোনা৷ অথচ আজ আমি দেশসেরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি। আজ আমি ৩৬৫ দিনের ৩০০ দিনই পাবলিক স্পিকিং করি দেশের বিভিন্ন জায়গায়। ইতিমধ্যে নাসা স্পেস এপস চ্যালেন্জ টিম, রোবোসাস্ট, বুয়েটের গোল্ড মেডেলিস্টরাসহ উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বড় সেমিনার করি যেখানে প্রধান স্পিকার ছিলাম। The Daily Star,প্রথম আলো -এর মতো পত্রিকা আমার সাক্ষাৎকার নেয়। এতোটাই অভাবে বড় হয়েছিলাম পেপার কিংবা ফেলা দেওয়া খাতায় টানা কয়েকবছর লিখেছি। স্মৃতিশক্তি এতোটাই দূর্বল ছিলো যে কী দিয়ে সকালে খাইছি কখনই মনে থাকতো না। আমি পারলে তুমি কেন পারবেনা ভাই? কলেজের সব পরীক্ষায় আমার ফেল করাটা হতাশা করেছিলো। শোককে শক্তিতে পরিণত করেছি।
জন্ম ১৯৪৫ সালে। বয়সের ঘর থেকে মুছে গেছে তাঁর ৬৪টি বছর। কিন্তু মুছে যায়নি শৈশব-কৈশোরের কষ্টের স্মৃতিগুলো। তিনি প্রথম পড়তে শেখেন ১০ বছর বয়সে। এরপর চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সাত বছর বয়সে বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর সংসারের আয়রোজগারের দায়িত্ব পড়ে তাঁর ওপর। বন্ধুরা যখন স্কুলে, ১৪ বছরের কিশোর লুলা দা সিলভা তখন রাস্তার মোড়ে বসে আছে রং-পলিশ নিয়ে। কী কাজ তাঁর? পথচারীর জুতা পলিশ। আজকের ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা সেদিন ছিলেন রাস্তার মুচি।
তুমি দেশসেরা প্রতিষ্ঠানে গর্বের সাথে পড়ার চেষ্টা করো। আমি আশা করব আমার মেটারিলয়াস কাজে দেবে। কিন্তু এটাই যেন স্বপ্ন নয় হয়। স্বপ্ন হবে সাধ্যেরও অনেক বাহিরে৷ তাজিংডং নয়, নয় কাপ্তাই-এর সর্বোচ্চ পাহাড় রাম কিংবা সিতা এর মতো উচ্চতার। স্বপ্ন চাই এভারেস্টের মতো উচ্চতার। পারলেনা পাবলিকিয়ান হতে? কাজী ফার্মস, স্বপ্ন কিংবা আরএফএল এর মতো বিজনেস ব্রান্ড তৈরি করল যেখানে লেখা থাকবে Made in Bangladesh ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইবিএ এর মতো ভিআইপি সাবজেক্ট পড়ে তোমার প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য স্বপ্ন দেখবে। এগুলো বাস্তব, ভাই। ইকবাল বাহারকে চেনো? ইন্টারফেল করেও উদ্দোক্তাদের মাস্টার৷ স্বপ্ন যেনো গুগলের প্রিন্সিপাল ইন্জিনিয়ার হওয়া অবধি সীমাবদ্ধ না থাকে। বিশ্বমানের আইটি ইন্ডাস্ট্রি তৈরির স্বপ্ন দেখো। গ্রিন টেকনোলজি নেজ ইকো ফ্রেন্ডলি গার্মেন্টস দেয়ার স্বপ্ন দেখো যেখানো হাজারো প্রতিবন্ধী মানুষ কাজকরবে। এগুলো বাস্তব হয়, ভাই। সাভারের সিআরপিতে দেখবে কারো পা নেই তিনি একজন একাউন্ট্যান্ট কারো হাত নেই তিনি মনিটরিং করছে। বাবুর্চি হলে টমি মিয়া হও ইংল্যান্ডের রাণীর যিনি রান্না করে। সর্বদা তোমাদের পাশে আছি একজন অভিভাবক হিসেবে। তোমাদের ছায়াতল দিতে সেরা চেষ্টা থাকবে। এমন এক বাংলাদেশ চাই যেটা আসলেই হবে স্বপ্নের মতো। স্বপ্নের মানুষ চাই৷
No comments